মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে ভোলা জেলা

ভোলা জেলার ইতিবৃত্ত

 

গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত দেশের একমাত্র দ্বীপ ভোলা । বর্তমান ভোলা একদা বৃহত্তর বরিশাল জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৮৫৪ সালে দ্বীপটি মহকুমায় উন্নীত হয়। ১৯৮৪ সালে মহকুমা থেকে জেলার মর্যাদা পায়। ভোলার আদি নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। চারদিকে নদী পরিবেষ্টিত এ জনপদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আবহমান বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মতোই। এলাকার কিংবদমত্মী, মসজিদ মন্দিরের স্থাপত্য ও নানা ঐতিহাসিক নিদর্শণ বিশে­ষণ করলে অনুমিত হয় এ জনপদ মাত্র ৭/৮ শত বছর আগে সভ্যতার আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে। মহারাজা কন্দর্প নারায়ণের কণ্যা বিদ্যাসুন্দরী ও কমলা রাণীর দিঘির ইতিহাস এ অঞ্চলের লোক সংস্কৃতির একটি অংশ। এ দিঘির কাহিনী নিয়ে সুদুর তামিলনাড়ুর নিম্নাঞ্চলে এখনও গান পরিবেশিত হয়। মেঘনা, তেঁতুলিয়া বিধৌত বঙ্গোপসাগরের উপকুলে জেগে ওঠা প্রায় ৯০ মাইল দৈর্ঘ্য ও ২৫ মাইল প্রস্থ বিশিষ্ট এ ভূখন্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যেদিকে চোখ যায় সব দিকে শুধু সমতল ভূমি।  ফসলের দোলায়মান দিগমত্ম বিস্তৃত মাঠ দেখে মানুষের মনে জেগে ওঠে বাউলের গান ও রাখালের বাঁশীতে ভর করে মোহনীয় সুর। প্রাকৃতিক সুষমামন্ডিত এ এলাকার গাছ গাছালী, পাখীর কুজন বারমাসী ফলমূল সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

 

হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ। সমুদ্র সমতল থেকে এর গড় উচ্চতা ১২ ফুটের মতো। নৃ-তত্ত্ব ও ভূ-তত্ত্ববিদরা মনে করেন ‘‘পূর্ব দিকে মেঘনা ও পশ্চিম দিকে তেঁতুলিয়া নদী বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এসে গতিবেগ হারিয়ে ফেলে। ফলে এ শামত্ম স্থানটিতে কালক্রমে পলি ও নদীতে বয়ে আসা বর্জ্য জমা হয়ে আজকের ভোলা নামক দ্বীপটির জন্ম।’’

 

ভোলার জন্ম খুব বেশি দিনের নয়। আনুমানিক ১২৩৫ সালের দিকে দ্বীপটি গড়ে ওঠতে শুরম্ন করে। এখানে প্রথম চর পড়া শুরম্ন হয় ১২৩৫ সালের দিকে এবং ১৩০০সালের দিকে চাষাবাদ শুরম্ন হয় বলে জে. সি. জ্যাক বাকেরগঞ্জ গেজেটিয়ারে উলেস্ন­খ করেন। এলাকার ধান, চাল, সুপারি, নারিকেল ও অন্যান্য প্রাচুর্যে প্রলুব্দ হয়ে একের পর এক বিদেশী শাসক ও পর্তুগীজ জলদস্যুরা এসেছে এখানে। ১৫০০ সালের দিকে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের নজর পড়ে এ দ্বীপটির ওপর। তারা দ্বীপটিকে ঘাঁটি বানিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে যেতে থাকে। এছাড়াও আরাকানের বর্গি ও মগরা দক্ষিণ শাহবাজপুরসহ আশেপাশের দ্বীপকে ঘাটি বানিয়ে লুটপাট চালিয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করে রাখত। এরই প্রেক্ষাপটে সম্ভবত রচিত হয়েছিল -‘‘খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিব কিসে ? ধান ফুরালো পান ফুরালো খাজনার উপায় কি ? আর কটা দিন সবুর কর রসূন বুনেছি’’- এর মত অসংখ্য ছড়া ও কবিতা।

 

১৫১৭ সালে জন ডি সিলবেরা নামক জনৈক পর্তুগীজ জলদস্যু দ্বীপটি দখল করে। পর্তুগীজদের রেখে যাওয়া ভীম দর্শণ কিছু রোমশ কুকুর আজও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সেসব লোমহর্ষক অত্যাচারের কাহীনি স্মরণ করিয়ে দেয়। বলা বাহুল্য মনপুরা ছিল এদের দস্যুবৃত্তির লীলাক্ষেত্র।

 

১৮ শতকে দক্ষিণ শাহবাজপুরের আয়তন ছিল মাত্র ২৫২ বর্গমাইল। ১৮২২ সাল পর্যন্ত শাহবাজপুর ছিল বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ। উনিশ শতকের প্রথমভাগে মেঘনার শাখা ইলিশা ও তেঁতুলিয়া বৃহত্তর আকার ধারণ করে। ফলে ভয়ংকর কালাবঁদর নদী পাড়ি দিয়ে নৌকা পথে জেলা সদর দফতরের সাথে দক্ষিণ শাহবাজপুরের যোগাযোগ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সরকার সিদ্বামত্ম নেয় বাকেরগঞ্জ হতে দক্ষিণ শাহবাজপুর ও হাতিয়াকে নোয়াখালীর অমর্ত্মভূক্ত করার। ১৮২২ সালের ২২ এপ্রিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দক্ষি শাহবাজপুরকে নোয়াখালীর অর্ন্তভূক্ত করার সুপারিশ করেন এবং ঐ বছর ৩ জুলাই নোয়াখালীর জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট এইচ, পারকার দক্ষিণ শাহবাজপুরের দায়িত্ব বুঝে নেন। ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত ভোলা নোয়াখালীর অধীনে ছিল।

 

ভোলা জেলার নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। ভোলা শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার  মতো অপ্রসস্ত ছিল না। একসময় এটি পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার চলতো। খুব বুড়ো এক মাঝি এখানে খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজন পারাপার করতো। তার নাম ছিল ভোলা গাজী পাটনী। আজকের যোগীরঘোলের কাছেই তার আস্তানা ছিল। এই ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম হয় ভোলা। ভোলার অন্যান্য উপজেলাও বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয় যেমন দৌলতখাঁ, তজুমুদ্দি, বোরহানউদ্দিন ও লালমোহন।

 

প্রাকৃতিক অনেক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েও ভোলাবাসী এখনও আশার আলো দেখতে চায়। এ নৈস্বর্গিক দ্বীপ ভোলা জেলায় মূল্যবান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ শুধু জেলাবাসীর জন্যই নয় সমগ্র দেশের জন্য আশানুরূপ সুফল বয়ে আনার প্রত্যাশা রাখে। এ জেলায় উৎপাদিত রূপালী ইলিশ ভোলা বাসীর চাহিদা পূর্ণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় এমনকি বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চরফ্যাশন,তজুমুদ্দিনসহ অন্যান্য উপজেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক মৎস্য চাষী মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের সুফল বয়ে এনেছেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রাপ্ত গ্যাস সম্পদকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্তোলনের মাধ্যমে গোটা দক্ষিণাঞ্চলকে গ্যাসের আওতায় এনে এখানে স্থাপন করা যায় একটি সার কারখানা। এছাড়াও এ গ্যাস দিয়ে ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৩৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ পস্নান্টে এ গ্যাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরম্ন হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভোলার দক্ষিণে চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, লতার চর ও চর নিজাম সহ অসংখ্য চর। নৈসর্গিক দৃশ্য সম্বলিত এ চরগুলো হতে পারে পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

 

সমস্যা ও সম্ভাবনার বেদীমূলে দাঁড়িয়ে আজকের ভোলা তাকিয়ে আছে সামনের পানে। খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রূপালী ইলিশ সমৃদ্ধ হলেও ঝড়-জ্বলোচ্ছাস ও নদী ভাঙ্গনের তান্ডবকে নিয়তির অমোঘ বিধান বলে মেনে নিয়েছে এখানকার মানুষ। তাই বলে তারা থেমে থাকেনি। একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে তারা অবিশ্রান্তপরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে চলছে সম্মুখের পানে।

 

ক্রঃ নং

বিষয়

পরিসংখ্যান

১)

প্রতিষ্ঠাকাল

১৯৮৪ খ্রি.

২)

আয়তন

৩,৪০৩.৪৮ বর্গ কিঃ মিঃ

৩)

মোট লোকসংখ্যা

২০,৩৭,২০১ জন

 

পুরম্নষ

৫১.১৭%

 

মহিলা

৪৮.৮৩%

৪)

জনসংখ্যার ঘনত্ব (প্রতি বর্গ কিঃ মিঃ)

৫০০জন

৫)

মোট ভোটার

৯৪১৩৯৫ জন

 

পুরম্নষ ভোটার

৪৬০১৭১ জন

 

মহিলা ভোটার

৪৮১২২৪ জন

৬)

মোট ভোট কেন্দ্র

৩৭০ টি

৭)

সার্কিট হাউজ

০১টি

৮)

উপজেলা পরিষদ

০৭টি

৯)

উপজেলা পরিষদ ডাকবাংলো

০৭টি

১০)

রেস্ট হাউজ

০৪টি

১১)

পৌরসভার সংখ্যা

০৫টি

 

ভোলা পৌরসভা

১ম শ্রেণি

 

দৌলতখাঁন পৌরসভা

৩য় শ্রেণি

 

বোরহানউদ্দিন পৌরসভা

১ম শ্রেণি

 

লালমোহন পৌরসভা

১ম শ্রেণি

 

চরফ্যাশন পৌরসভা

২য় শ্রেণি

১২)

উপজেলার সংখ্যা

০৭টি

১৩)

থানা

০৯টি

১৪)

পুলিশ ফাড়ী

০১টি

১৫)

তদমত্ম কেন্দ্র

০৪টি

১৬)

ইউনিয়ন

৬৬টি

১৭)

গ্রাম

৪৭৩টি

১৮)

পরিবারের সংখ্যা

৩,০৭,৪৩৬ টি

১৯)

পরিবার প্রতি লোকসংখ্যা

৫.৫৪ জন

২০)

নদীর সংখ্যা

০৩টি

 

মোট আয়তন

১,১৩৩.৪৬ বর্গ কিঃ মিঃ

২১)

রাসত্মার দৈর্ঘ্য

৩,৮৯৩.৬৫ কিঃ মিঃ

 

পাকা রাস্তা

৩,০০১.৮ কিঃমিঃ

 

কাঁচা রাস্তা

৮৯৯.৮৫ কিঃ মিঃ

 

শিক্ষা সংক্রান্ততথ্য

 

০১)

শিক্ষার হার

৪৭%

 

পুরুষ

৩৮.২৮%

 

মহিলা

৩৪.২৫%

০২)

নিরক্ষর লোকের সংখ্যা

৮,২৮,০৮০ জন

 

পুরম্নষ

৩,৩১,৮৮০জন

 

মহিলা

৪,৯৬,২০০জন

০৩)

মোট কলেজ

৩৭টি

 

সরকারী

০৩টি

 

বেসরকারী

৩৪টি

০৪)

মাধ্যমিক বিদ্যালয়

১৭৫টি

 

সরকারী

০৬টি

 

বেসরকারী

১৬৯টি

০৫)

জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়

৭৭টি

০৬)

পিটিআই

০১টি

০৭)

ভিটিআই

০১টি

০৮)

কারিগরি স্কুল

০৯টি

০৯)

টেক্সটাইল স্কুল

------

১০)

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

৪২৪টি

১১)

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

৪৯৮টি

১২)

অস্থায়ী রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়

 ০৪টি

১৩)

কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 ৩২টি

 

 

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ততথ্য

                                                                                                                                   

০১)

মাদ্রাসাঃ

 

 

কওমী

১০৩টি

 

এবতেদায়ী

৪৬০টি

 

দাখিল

১৮৫টি

 

আলিম

২৫টি

 

ফাজিল

২৮টি

 

কামিল

০৪টি

০২)

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান

২৫২২টি

০৩)

মসজিদ

২৩৯১টি

০৪)

মন্দির

১৩০

০৫)

গীর্জা

০১টি

০৬)

 

 

 

 

ভূমি সংক্রান্ততথ্য

 

০১)

ইউনিয়ন ভূমি অফিস

৪৭টি

০২)

মৌজা

৩৮১টি

০৩)

হাঁট-বাজার

২৪৫টি

০৪)

জলমহাল

১০৯টি

০৫)

বালুমহাল

--

০৬)

মোট জমি(একর)

৪,৯২,২৩৪.৫১একর

 

কৃষি

৪,১৪,৭৬৩.৬৫একর

 

অকৃষি

৭৭,৪৭০.৮৬একর

০৭)

মোট খাস জমি

১,১৩,৭৩৯.৫৮একর

 

কৃষি

১,০৪,৪৮১.৭৩ একর

 

অকৃষি

২৮২.৮৫ একর

০৮)

সেচের আওতাভূক্ত জমির পরিমান

৮৯৭৫.৮৫ একর

০৯)

করদাঁতার সংখ্যা

৩৬৭৪জন

১০)

আবাসন প্রকল্প

৮৯টি

 

বাস্তবায়িত

১৪টি

 

বাস্তবায়নাধীন

৭৫টি

১১)

আদর্শ গ্রাম

১৫৮টি

 

বাস্তবায়িত

১৫৮ট

 

বাস্তবায়নাধীন

-----

১২)

আশ্রয়ন প্রকল্প

৩১টি

 

বাস্তবায়িত

৩১টি

 

বাস্তবায়নাধীন

-----

১৩)

ঘূণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র

২৪১টি

১৪)

মাটির কিলস্না

৩২টি

১৫)

নলকুপ

১৪৯৪৩টি

 

গভীর নলকুপ

১৪,৯৪৩টি

 

অগভীর নলকুপ

-----

 

 

চিকিৎসা সংক্রান্ততথ্য

 

০১)

আধুনিক হাসপাতাল

০১টি

০২)

স্বাস্থ্য কেন্দ্র

০৬টি

০৩)

টিবি ক্লিনিক

০১টি

০৪)

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র

০১টি

০৫)

ডায়াবেটিক হাসপাতাল

০১টি

০৬)

স্যাটেলাইট ক্লিনিক

২৭৬টি

০৭)

সরকারী শিশু সদন

০২টি

 

পশু সম্পদ সংক্রান্ততথ্য

 

১)

গবাদি পশু

 

 

           গরু

৩,২৯,১৩০ টি

     

           মহিষ

৯৮,১৮৬ টি

 

           ছাগল

১,৩২,৫৫০ টি

 

           ভেড়া

৭,২৫০ টি

 

           মুরগী

১৮,৮৬,৮৮০ টি

 

           হাঁস

১১,৩১,২৫০ টি

২)

খামার

 

 

       দুগ্ধ খামার

৬৯ টি

 

        ছাগলের খামার

১৬৪ টি

 

       ভেড়ার খামার

১৯ টি

  

       মুরগীর খামার

৪৬০ টি

 

       হাঁসের খামার

২২০ টি

৩)

প্রতিষেধক কার্যক্রম

 

         

        গবাদি পশু

 

 

                   লক্ষ্যমাত্রা

১,৬০,০০০

 

                   অর্জণ

৭৫,৪৯৬

 

        হাঁস-মুরগী

 

          

                   লক্ষ্যমাত্রা

৫০,০০,০০০--৪৭%

 

                    অর্জণ

৩৩,৯৯,৫০০--৬৮%

 

অন্যান্য তথ্য

 

০১)

খাদ্য গুদাম ও ধারণ ক্ষমতা

১৪টি এবং ২২,৫০০মেঃ টন

০২)

সিনেমা হল

২৮টি

০৩)

ব্যাংক

৬২টি

 

সোঁনালী ব্যাংক

১০টি

 

জনতা ব্যাংক

০৭টি

 

অগ্রণী ব্যাংক

০৯টি

 

রূপালী ব্যাংক

০৭টি

 

পূবালী ব্যাংক

০১টি

 

উত্তরা ব্যাংক

০৪টি

 

কৃষি ব্যাংক

১৭টি

 

গ্রামীন ব্যাংক

০৪টি

 

ইসলামী ব্যাংক

০১টি

 

ন্যাশনাল ব্যাংক

০১টি

 

অন্যান্য ব্যাংক

০৫টি

০৪)

বিসিক শিল্প নগরী

০১টি

০৫)

মোট বনাঞ্চল

২৭,৫২৩ হেঃ

০৬)

ফেরী ঘাট/খেয়াঘাট

৩১ টি

০৭)

স্টেডিয়াম

০৭টি

০৮)

ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশণ

০৪ টি

০৯)

এনজিও

৩০টি

১০)

ডাকঘর

১১২টি

 

এক নজরে সাধারণ শাখার তথ্য কনিকাঃ

শাখার কার্যক্রমঃ

ক)        বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়াদি।

1.                  পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা বিষয়।

2.                 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থাপনা বিষয়।

3.                শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়।

4.                  জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন কার্যক্রম।

5.                 ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত বিষয় ।

6.                 অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়।

শিক্ষা সংক্রান্ত তথ্যাদিঃ

১.

নিরক্ষর লোকের সংখ্যাঃ

৮,২৮,০৮০ জন

 

পুরুষ

৩,৩১,৮৮০জন

 

মহিলা

৪,৯৬,২০০জন

২.

শিক্ষার হারঃ

৪৭%

 

পুরম্নষ

৩৮.২৮%

 

মহিলা

৩৪.২৫%

৩.

মোট কলেজঃ

 

 

সরকারি

০৩টি

 

বেসরকারী

৩৪টি

৪.

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ

 

 

সরকারি

০৬টি

 

বেসরকারী

১৬৯টি

 

জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়

৭৭টি

৫.

পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট

০১ টি

৬.

পিটিআই

০১টি

৭.

ভিটিআই

০১টি

৮.

কারিগরি স্কুল

০৯টি

৯.

সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

৪২৪টি

১০.

বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

৪৯৮টি

১১.

মাদ্রাসাঃ

 

 

       কওমী

১০৩টি

 

      এবতেদায়ী

৪৬০টি

 

       দাখিল

১৮৫টি

 

       আলিম

২৫টি

 

       ফাজিল

২৮টি

 

       কামিল

০৪টি

১২.

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানঃ

 

 

মসজিদ

২৩৯১টি

 

মন্দির

১৩০ টি

 

গীর্জা

০১টি

১৩.

আধুনিক হাসপাতাল

০১টি

১৪.

স্বাস্থ্য কেন্দ্র

০৬টি

১৫.

টিবি ক্লিনিক

০১টি

১৬.

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র

০২টি

১৭.

ডায়াবেটিক হাসপাতাল

০১টি

১৮.

স্যাটেলাইট ক্লিনিক

২৭৬টি

১৯.

সরকারী শিশু সদন

০২টি

২০.

খাদ্য গুদাম ও ধারণ ক্ষমতা

১৪টি এবং ২২,৫০০মেঃ টন

 

গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত দেশের একমাত্র দ্বীপ ভোলা। এর আয়তন ৩৭৩৭.২১ বর্গ কিলোমিটার ভোলা জেলার আদি নাম ছিল দক্ষিন শাহবাজপুর। উত্তরে বরিশাল এবং লক্ষ্মিপুর জেলা, দক্ষিনে বঙ্গোপসাগর, পূর্বে নোয়াখালী জেলা, মেঘনা নদী এবং শাহবাজপুর চ্যানেল এবং পশ্চিমে পটুয়াখালী জেলা এবং তেতুলিয়া নদী। হিমালয় থেকে নেমে আসা দেশের ৩টি প্রধান নদী- পদ্মা, মেঘনা ও ব্রক্ষ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ। সমুদ্র সমতল থেকে এর গড় উচ্চতা ১২ফুটের মতো। মেঘনা তেতুলিয়া বিধৌত বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জেগে উঠা প্রায় ৯০ মাইল দৈর্ঘ্য ও ২৫মাইল প্রস্থ বিশিষ্ট এ ভূ-খন্ডে প্রধানত ধান, চাল, সুপারি ও নারিকেল উৎপাদিত হয়। এ নৈস্বর্গিক দ্বীপ ভোলা জেলায় মূল্যবান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ শুধু জেলাবাসীর জন্যই নয় সমগ্র দেশের জন্য আশানুরূপ সুফল বয়ে আনার প্রত্যাশা রাখে । যে জেলায় উৎপাদিত রম্নপালী ইলিশ ভোলাবাসীর চাহিদা পূর্ণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় এমনকি বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এ ছাড়াও রয়েছে নৈস্বর্গিক দৃশ্য সম্বলিত চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, লতার চর ও চর নিজামসহ অসংখ্য চর। যা হতে পারে পর্যটনের জন্য আকর্ষনীয় স্থান। এ জেলার জেলা প্রশাসন জেলাবাসীকে অবিরত ও নি:স্বার্থ সেবা দিয়ে আসছে। সমস্যা ও সম্ভাবনার বেদীমূলে দাঁডিয়ে আজকের ভোলা তাকিয়ে আছে সামনের পানে। একটি সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে এরই ধারাবাহিকতায় তথ্য প্রযুক্তির যুগে সেবার মান, প্রশাসনের গতিশীলতা এবং অবাধ তথ্য প্রবাহের জন্য জেলা প্রশাসন এ ওয়েব সাইট খোলার উদ্যোগ নিয়েছে। আশা করি এ জেলার অধিবাসী, সরকার তথা আপামর জনগণ এতে অনেক উপকৃত হবেন।

 

ভোলা জেলার পটভূমিঃ

গাঙ্গেয় অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে অবস্থিত দেশের একমাত্র দ্বীপ ভোলা । বর্তমান ভোলা একদা বৃহত্তর বরিশাল জেলার একটি মহকুমা ছিল। ১৮৫৪ সালে দ্বীপটি মহকুমায় উন্নীত হয়।  ভোলার আদি নাম ছিল দক্ষিণ শাহবাজপুর। চারদিকে নদী পরিবেষ্টিত এ জনপদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আবহমান বাংলার অন্যান্য অঞ্চলের মতোই। এলাকার কিংবদমত্মী, মসজিদ মন্দিরের স্থাপত্য ও নানা ঐতিহাসিক নিদর্শণ বিশেস্ন­ষণ করলে অনুমিত হয় এ জনপদ মাত্র ৭/৮ শত বছর আগে সভ্যতার আলোকপ্রাপ্ত হয়েছে। মহারাজা কন্দর্প নারায়ণের কণ্যা বিদ্যাসুন্দরী ও কমলা রাণীর দিঘির ইতিহাস এ অঞ্চলের লোক সংস্কৃতির একটি অংশ। এ দিঘির কাহীনি নিয়ে সুদুর তামিলনাড়ুর নিম্নাঞ্চলে এখনও গান পরিবেশিত হয়। মেঘনা, তেঁতুলিয়া বিধৌত বঙ্গোপসাগরের উপকুলে জেগে ওঠা প্রায় ৯০ মাইল দৈর্ঘ্য ও ২৫ মাইল প্রস্থ বিশিষ্ট এ ভূখন্ডের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যেদিকে চোখ যায় সব দিকে শুধু সমতল ভূমি।  ফসলের দোলায়মান দিগমত্ম বিসত্মৃত মাঠ দেখে মানুষের মনে জেগে ওঠে বাউলের গান ও রাখালের বাঁশীতে ভর করে মোহনীয় সুর। প্রাকৃতিক সুষমামন্ডিত এ এলাকার গাছ গাছালী, পাখীর কুজন বারমাসী ফলমূল সত্যিই উল্লেখযোগ্য।

হিমালয় থেকে নেমে আসা ৩টি প্রধান নদী পদ্মা, মেঘনা ও ব্রহ্মপুত্র বাহিত পলি দিয়ে মোহনায় গড়ে উঠেছে এ দ্বীপ। সমুদ্র সমতল থেকে এর গড় উচ্চতা ১২ ফুটের মতো। নৃ-তত্ত্ব ও ভূ-তত্ত্ববিদরা মনে করেন ‘‘পূর্ব দিকে মেঘনা ও পশ্চিম দিকে তেঁতুলিয়া নদী বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এসে গতিবেগ হারিয়ে ফেলে। ফলে এ শামত্ম স্থানটিতে কালক্রমে পলি ও নদীতে বয়ে আসা বর্জ্য জমা হয়ে আজকের ভোলা নামক দ্বীপটির জন্ম।’’

আনুমানিক ১২৩৫ সালের দিকে দ্বীপটি গড়ে ওঠতে শুরম্ন করে। এখানে প্রথম চর পড়া শুরম্ন হয় ১২৩৫ সালের দিকে এবং ১৩০০সালের দিকে চাষাবাদ শুরম্ন হয় বলে জে. সি. জ্যাক বাকেরগঞ্জ গেজেটিয়ারে উলেস্ন­খ করেন। এলাকার ধান, চাল, সুপারি, নারিকেল ও অন্যান্য প্রাচুর্যে প্রলুব্দ হয়ে একের পর এক বিদেশী শাসক ও পর্তুগীজ জলদস্যুরা এসেছে এখানে। ১৫০০ সালের দিকে মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের নজর পড়ে এ দ্বীপটির ওপর। তারা দ্বীপটিকে ঘাঁটি বানিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বিঘ্নে লুটপাট চালিয়ে যেতে থাকে। এছাড়াও আরাকানের বর্গি ও মগরা দক্ষিণ শাহবাজপুরসহ আশেপাশের দ্বীপকে ঘাটি বানিয়ে লুটপাট চালিয়ে এদেশের সাধারণ মানুষের মনে ভীতি সৃষ্টি করে রাখত। এরই প্রেক্ষাপটে সম্ভবত রচিত হয়েছিল -‘‘খোকা ঘুমালো পাড়া জুড়ালো বর্গি এলো দেশে, বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দিব কিসে ? ধান ফুরালো পান ফুরালো খাজনার উপায় কি ? আর কটা দিন সবুর কর রসূন বুনেছি’’- এর মত অসংখ্য ছড়া ও কবিতা। ১৫১৭ সালে জন ডি সিলবেরা নামক জনৈক পর্তুগীজ জলদস্যু দ্বীপটি দখল করে। পর্তুগীজদের রেখে যাওয়া ভীম দর্শণ কিছু রোমশ কুকুর আজও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষকে সেসব লোমহর্ষক অত্যাচারের কাহীনি স্মরণ করিয়ে দেয়। বলা বাহুল্য মনপুরা ছিল এদের দস্যুবৃত্তির লীলাক্ষেত্র।

১৮ শতকে দক্ষিণ শাহবাজপুরের আয়তন ছিল মাত্র ২৫২ বর্গমাইল। ১৮২২সাল পর্যমত্ম শাহবাজপুর ছিল বাকেরগঞ্জ জেলার অংশ। উনিশ শতকের প্রথমভাগে মেঘনার শাখা ইলিশা ও তেঁতুলিয়া বৃহত্তর আকার ধারণ করে। ফলে ভয়ংকর কালাবঁদর নদী পাড়ি দিয়ে নৌকা পথে জেলা সদর দফতরের সাথে দক্ষিণ শাহবাজপুরের যোগাযোগ রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই সরকার সিদ্বামত্ম নেয় বাকেরগঞ্জ হতে দক্ষিণ শাহবাজপুর ও হাতিয়াকে নোয়াখালীর অমর্ত্মভূক্ত করার। ১৮২২ সালের ২২ এপ্রিল জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দক্ষি শাহবাজপুরকে নোয়াখালীর অমর্ত্মভূক্ত করার সুপারিশ করেন এবং ঐ বছর ৩ জুলাই নোয়াখালীর জয়েন্ট ম্যাজিস্ট্রেট এইচ, পারকার দক্ষিণ শাহবাজপুরের দায়িত্ব বুঝে নেন। ১৮৬৯ সাল পর্যন্ত ভোলা নোয়াখালীর অধীনে ছিল।

এ দ্বপটির নাম ‘‘ভোলা’’ নামকরণের পেছনে স্থানীয়ভাবে একটি কাহিনী প্রচলিত আছে। ভোলা শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া বেতুয়া নামক খালটি এখনকার  মতো অপ্রশসত্ম ছিলনা। একসময় এটি পরিচিত ছিল বেতুয়া নদী নামে। খেয়া নৌকার সাহায্যে নদীতে পারাপার চলতো। খুব বুড়ো এক মাঝি এখানে খেয়া নৌকার সাহায্যে লোকজন পারাপার করতো। তার নাম ছিল ‘ভোলা গাজী পাটনী’। আজকের যোগীরঘোলের কাছেই তার আসত্মানা ছিল। এই ভোলা গাজীর নামানুসারেই এক সময় স্থানটির নাম হয় ‘‘ভোলা’’।

ভোলা জেলার  জন্ম খুব বেশি দিনের নয়। ১লা ফ্রেবুয়ারী ১৯৮৪ ভোলা দ্বীপটি মহকুমা থেকে জেলায় উন্নীত হয়। ভোলা জেলায় প্রথম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জনাব সৈয়দ মনির উদ্দিন। ভোলা জেলায় বর্তমানে  উপজেলা ৭টি, ইউনিয়ন ৬২টি, গ্রামের সংখ্যা ৪৭৩টি। প্রায় ২০ লক্ষ লোকের নিবাস এ বৃহত্তম দ্বীপটিতে কোন শিল্প কলকারখানা নেই। এ জেলার প্রায় ৮৫ ভাগ মানুষ কৃষিজীবী। ধান, চাল, সুপারি, নারিকেল ও অন্যান্য প্রাচুর্যে ভরা  এ নৈস্বর্গিক দ্বীপ ভোলা জেলায় মূল্যবান প্রাকৃতিক ও খনিজ সম্পদ শুধু জেলাবাসীর জন্যই নয় সমগ্র দেশের জন্য আশানুরূপ সুফল বয়ে আনার প্রত্যাশা রাখে। এ জেলায় উৎপাদিত রূপালী ইলিশ ভোলা বাসীর চাহিদা পূর্ণ করে দেশের অন্যান্য জেলায় এমনকি বিদেশে রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। চরফ্যাশন,তজুমুদ্দিনসহ অন্যান্য উপজেলায় উৎপাদিত বাগদা চিংড়ি চাষের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অনেক মৎস্য চাষী মৎস্য সম্পদ উন্নয়নের সুফল বয়ে এনেছেন। উপজেলায় বোরহানউদ্দিন উপজেলায় প্রাপ্ত গ্যাস সম্পদকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উত্তোলনের মাধ্যমে গোটা দক্ষিণাঞ্চলকে গ্যাসের আওতায় এনে এখানে স্থাপন করা যায় একটি সার কারখানা। এছাড়াও এ গ্যাস দিয়ে ৪০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে ৩৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যূৎ প্লান্ট এ গ্যাসের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে ভোলার দক্ষিণে চর কুকরী মুকরী, ঢালচর, লতার চর ও চর নিজাম সহ অসংখ্য চর। নৈসর্গিক দৃশ্য সম্বলিত এ চরগুলো হতে পারে পর্যটনের জন্য আকর্ষণীয় স্থান।

 

দর্শণীয় স্থানঃ

 

বর্ণনা

যাতায়াত ব্যবস্থা

প্রয়োজনে যোগাযোগ

কুকরী-মুকরীঃ

ভোলার বুকে জেগে উঠা প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি চর

ককরী-মুকরী। এটিকে দ্বীপকন্যাও বলা হয়ে থাকে। ম্যান-

গ্রোভ বনাঞ্চল,বন্যপ্রানী আর সমুদ্র সৈকতকেঘিরে সৌন্দর্যের

এক বর্ণিল উপস্থিতি যা প্রকৃতি প্রেমিক পর্যটকদের হাতছানি

দিয়ে ডাকে। প্রায় ৪‘শ থেকে ৫‘শবছরের পুরোনো এ চরে

আজও সভ্যতার ছোঁয়া লাগেনি। বঙ্গোপসাগরের কুলে মেঘনা-

তেতুলিয়ার মোহনায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠা বিশাল বনাঞ্চল

বেষ্টিত এ দ্বীপে বিচরণ করছে অসংখ্য হরিণ, গরম্ন-মহিষ,বানর

এবং নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী। মাঝে মধ্যে চিতাবাঘেরও উপ-

স্থিতি টের পাওয়া যায় এ দ্বীপকন্যার বুকে।এখানে নিরাপদ

নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা, হোটেল-মোটেলসহ আধুনিক পর্যটন

ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে তা কুয়াকাটার চেয়েও নৈসর্গিক

সৌন্দর্যের লীলাভূমিতে পরিনত হতে পারে। এর পাশাপাশি

চর পাতিলা ও ঢালচরও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা পৃথক দু’টি

দ্বীপ। এখানেও শীতের সময় বিভিন্ন প্রজাতির পাখিসহ হরিণ,

বালিহাঁস মানুষের মনজুড়ানো পরিবেশের সূচনা করে।                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                                               

ভোলা সদর থেকে গাড়ী যোগে ১০০কি:মি: পাড়ি

দিয়ে কচ্ছপিয়া পৌছে সেখান থেকে পূণরায়৩০ কি:মি: নৌকা-ট্রলার বা স্পীডবোটে মেঘনা নদী অতিক্রম করে এ দ্বীপে পৌঁছাতে হয়।

 

উপজেলা নির্বাহি অফিসার, চরফ্যাশন।

ফোন:০৪৯২৩-৭৪০৩০।

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্মৃতি যাদুঘরঃ

দ্বীপ জেলা ভোলার বুকে  জম্ম নেয়া শহীদ সিপাহী বীরশ্রেষ্ঠ

মোসত্মফা কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাক-সেনাদের

সাথে সম্মুখযুদ্ধে নিহত হন। তাঁরই স্মৃতিকে চির অমস্নান রাখতে

পিতৃনিবাস ভোলা জেলার আলীনগর ইউনিয়নের মৌটুপি

মৌজায় ২০০৭ সালে সরকারী  তত্বাবধানে গড়ে ওঠে বীরশ্রেষ্ঠ

মোসত্মফা কামাল স্মৃতি যাদুঘর। আলীনগর হাই স্কুল সংলগ্ন

খেলার মাঠকে সামনে রেখে সুবিন্যাসত্ম একতলা দালানে এ

যাদুঘর তৈরী হয়েছে। পাঠাগার, মিলনায়তন এবং মুক্তি যুদ্ধের

স্মৃতি বিজরিত বিভিন্ন চিত্রের সমারোহ  নিমিশে বেড়াতে আসা

মানুষের মন কেড়ে নেয়। যাদুঘরে রক্ষিত স্মৃতি চিহ্ন এবং

পুসত্মকসমূহ নতুন প্রজম্মের কাছে মুক্তি যুদ্ধের ইতিহাস তুলে

ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

 

 

 

 

 

জেলা তারকাঃ

 

ডাঃ আজাহার উদ্দিন আহমদ

পিতা:                 মরহুম গোলাম রহমান পাটোয়ারী

ঠিকানা:               আজিজ মেডিকেল হল, সদর রোড, বরিশাল।

জন্ম:                  ১৩অক্টোবর, ১৯১৩ খ্রি.।   

কর্ম:                   তিনি অল ইন্ডিয়া মেডিকিল লাইসেন্শিয়েট এসোসিয়েশনের বরিশাল জেলার সভাপতি ছিলেন। ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দু’বার প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধী দলের ডেপুটি লিডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

                        ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

                        ষাটের দশকে বাঙ্গালীর পক্ষ পার্লামেন্টে জোড়ালো কন্ঠে কথা বলায় তার ভূমিকা ছিল অগ্রণী।

মৃত্যু:                 

 

 

আজিজুদ্দিন আহমদ

পিতা:                 মরহুম মৌলভী আবদুল লতিফ

ঠিকানা:               দৌলতখান,ভোলা

জন্ম:                  ১৮৯৭খ্রি.

কর্ম:                   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও বিএল ডিগ্রী লাভ করে আইণ পেশায় যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালে প্রথম পাকিত্মানের গণপরিষদের সদস্য হন, ১৫৫১ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেন আওয়ামী-

লীগের প্রার্থী হিসাবে ১৯৫৮ সালে উপ-নির্বাচনে পাকিসত্মানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 

মৃত্যু:                  ১০জুলাই ১৯৬৮।

 

 

আবদুল হাই চৌধুরী

পিতা:                 মৌলভী মোহাম্মদ ইসলাম চৌধুরী

ঠিকানা:               দৌলতখান, ভোলা।

জন্ম:                 

কর্ম:                   ১৯৪৩ সনে তৎকালীন বৃটিশ ভারতীয় গভর্ণমেন্টের সিভিল পাইওনিয়ার ফোর্সে কমিশন লাভ করেন এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৪ সনে কোপেনহেগেনে জাতীয় পরিষদ সংঘের আমর্ত্মজাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৫ সনে পূর্ব পাকিত্মানের প্রাদেশিক আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।

মৃত্যু:                  ৯সেপ্টেম্বর ১৯৭৬।       

 

 

 

বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল

 

পিতা:                 মোঃ হাবিবুর রহমান খলিফা।

মাতাঃ                 মালেকা বেগম মাতববর।

ঠিকানা:          সৈয়দপুর, দৌলতখান, ভোলা। বর্তমানে- আলীনগর, ভোলা সদর।

জন্ম:                  ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৪৭ খ্রি.।   

কর্ম:                   বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোহাম্মদ মোসত্মফা কামাল শৈশব থেবে বুদ্ধি বিকাশের সাথে সাথে দেশাত্ববোধে সর্বদা  উজ্জীবিত ছিলেন। ১৯৬৭ সালে ২০ বছর সয়সে দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশমাতৃকা সেবায় পাকিসত্মান সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে সিপাহী পদে যোগদান করেন।    তিনি সুদীর্ঘ অনবদ্য কর্মজীবনে কৃতিত্বের  স্বাক্ষর রেখে বাংলার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অকুতোভয় নৈনিকের মত সংগ্রাম করেন।

 

মৃত্যু:                  ১৭ এপ্রিল ১৯৭১ কুমিলস্না জেলার তেলিয়াপাড়া ও গঙ্গাসাগর এলাকায় পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধকালীন সময়ে মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

 

 

আজিজুদ্দিন আহমদ

পিতা:                 মরহুম মৌলভী আবদুল লতিফ

ঠিকানা:               দৌলতখান,ভোলা

জন্ম:                  ১৮৯৭খ্রি.

কর্ম:                   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও বিএল ডিগ্রী লাভ করে আইণ পেশায় যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে সাফল্য অর্জন করেন। ১৯৪৭ সালে প্রথম পাকিসত্মানের গণপরিষদের সদস্য হন, ১৫৫১ সালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেন আওয়ামী-

লীগের প্রার্থী হিসাবে ১৯৫৮ সালে উপ-নির্বাচনে পাকিসত্মানের জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। 

মৃত্যু:                  ১০জুলাই ১৯৬৮।

 

 

আবদুল হাই চৌধুরী

পিতা:                 মৌলভী মোহাম্মদ ইসলাম চৌধুরী

ঠিকানা:               দৌলতখান, ভোলা।

জন্ম:                 

কর্ম:                   ১৯৪৩ সনে তৎকালীন বৃটিশ ভারতীয় গভর্ণমেন্টের সিভিল পাইওনিয়ার ফোর্সে কমিশন লাভ করেন এবং দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৪ সনে কোপেনহেগেনে জাতীয় পরিষদ সংঘের আন্তজার্তিক সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। ১৯৬৫ সনে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক আইন ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বভার গ্রহন করেন।

মৃত্যু:                  ৯সেপ্টেম্বর ১৯৭৬।             

 

 

 

 

মুক্তিযুদ্ধে ভোলা

 

দেউলার যুদ্ধ   

 

       ভোলা মহকুমার মুক্তিযুদ্ধ একটি করুণঘটনা দিয়ে শুরু। বরিশাল দখলের পর ভোলা ট্রেজারি দখল নিয়ে দ্বিমত হয়। এ নিয়ে ২৮ এপ্রিল মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলি হয়। ফলে, ঘটনাস্থলে ফ্লাইট লেপটেন্যান্ট মাকসুদুর সহমান, আলী আশরাফ ও ৫ জন মুক্তযোদ্ধ নিহত হয়। ২রা মে পাক-বাহিনী ভোলা দখল করে। ক্যান্টেন কায়ানী ও সুবেদার নওয়াব মোসেন সমগ্র ভোলা মহকুমায় সন্ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা  করে। সুবেদার সিদ্দিকুর রহমান, আনছার এডজুটেন্ট আলী আকবর, আগরতলা মামলার অভিযুক্ত  আবদুল আজিজ, কাজী আফতাব উদ্দিন প্রমুখ ভোলা মহকুমার মুক্তিবহিনী গঠন করেন। লালমোহনের কাজী আফতাব উদ্দিন একদল গেরিলা নিয়ে সুন্দরবন হয়ে ভোলায় পৌছেন। তারপর দেউলার  সিদ্দিকুর  রহমানও মুক্তযোদ্ধাদের নিয়ে এগিয়ে এলেন। ভোলা মহকুমায় মুক্তবহিনীর ৪৮টি ক্যাম্প ছিল। মুক্তিবাহিনীর সার্বিক পরিচালনায় ছিলেন দেউলা নিবাসী সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ১৯৬৪ সনে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ইতিপূর্বে খুলনা রেডিও অফিস ও সীমান্তেযুদ্ধ করে কৃতিত্বের পরিচয় দেন২২ অক্টোবর পাক বাহিনী তেতুলিয়াও বেতুয়া খাল দিয়ে দেউলা গ্রামে ঢুকে ৮০টি বাড়ীপুড়িয়ে দেয়। সিদ্দিকুর রহমান সহযোদ্ধাদের নিয়ে  দেউলা দিঘির পাড়ে পাকসেনাদের আক্রমণ করেন। সারাদিন যুদ্ধ চলে। যুদ্ধে প্রায় ৬৪জন পাকসেনা খতম হয়। বাকী কয়েকজন ভোলা শহরে পালিয়ে যায়।

 

টনির হাট ও ঘুইংগার হাটের যুদ্ধ

 

টনির হাট বা বাংলাবাজারের যুদ্ধ ছিল মুক্তিবাহিনীর জন্য সবচেয়ে হৃদয় বিদারক ঘটনা। মোহাম্মদ টনি নামে নোয়াখালীর এক মুন্সী ভোলা থেকে ৭ মাইল দূরে বোরহানউদ্দিনের রাসত্মার পাশে বাস করতো এবং তার নামে একটি বাজার বসে।বাজারের নাম ছিল টনির হাট। আনসার  এডজুটেন্ট আলী আকবর একদল মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে পাকবাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য টনির হাটে অবস্থান করে্ মোঃ টনি মুক্তিযোদ্ধাদের তার বাড়ীতে আশ্রয় দিয়ে গোপনে ভোলায় পাক সেনাদের সংবাদ দেয়। সেদিন ছিল ২৭ অক্টোবর। পাকবাহিনী হঠাৎ ভোলা থেকে টনির বাজার ও বাড়ী আক্রমণ করে। এ যুদ্ধে ৮০ জন মুক্তি যোদ্ধা শহীদ হন। ২৯ অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা দৌলতখাঁ বোরহানউদ্দিন থানা আক্রমণ করে অস্ত্র ছিনিয়ে নেন। ৬ ডিসেম্বর ভোলা মহকুমা শত্রুমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

 

 

ভোলার ঐতিহ্য নিয়ে এ পর্যন্ত কয়েকটি বই বেরিয়েছে। বই সমূহের নাম ও লেখকের নাম নিম্নে দেয়া হলঃ

 

 

ক্রম

বইয়ের নাম

লেখক

১.

ভোলা জেলার ইতিহাস

অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী

২.

পলি মাটির দেশ ভোলা

মোস্তফা হারুন

৩.

বাকেরগঞ্জের ইতিহাস

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী